English
ই-স্কুল
English Skilljob

শুধু ইংরেজি জেনেও যেসব 'আনকমন' কাজ করা যায়

Share:
শুধু ইংরেজি জেনেও যেসব 'আনকমন' কাজ করা যায়

ফ্রিল্যান্সিং বা রিমোট জব বললেই আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে গ্রাফিক্স ডিজাইন, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট বা কোডিংয়ের মতো কঠিন সব টেকনিক্যাল কাজ। কিন্তু আপনি কি জানেন, এসব জটিল স্কিল ছাড়াও শুধুমাত্র ইংরেজি ভাষায় ভালো দখল থাকলে আপনি আন্তর্জাতিক মার্কেটপ্লেসে ভিন্নধর্মী অনেক কাজ করতে পারেন?

কন্টেন্ট রাইটিং বা ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্টের বাইরেও এমন কিছু সেক্টর আছে, যেখানে ইংরেজি জানা মানুষের কদর অনেক বেশি। চলুন জেনে নিই এমন কিছু কাজের খোঁজ।

১. প্রুফরিডিং ও এডিটিং (Proofreading & Editing)

অনেকেই ভালো লিখতে পারেন না বা লিখলেও ছোটখাটো ভুল থেকে যায়। বিদেশের অনেক লেখক, গবেষক বা ব্লগার তাদের লেখা প্রকাশের আগে একজন দক্ষ 'প্রুফরিডার' খুঁজেন।

  • কাজ: লেখার বানান, গ্রামার এবং বাক্য গঠনের ভুলগুলো শুধরে দেওয়া।

  • কারা করবেন: যাদের ইংরেজির গ্রামারে খুব ভালো দখল আছে এবং খুঁটিনাটি ভুল ধরার "ঈগল চোখ" আছে।

২. সাবটাইটেল ও ক্যাপশন তৈরি (Subtitling & Captioning)

নেটফ্লিক্স, ইউটিউব বা অ্যামাজন প্রাইমের যুগে ভিডিও কন্টেন্টের চাহিদা আকাশচুম্বী। ইংরেজি ভিডিওর জন্য সাবটাইটেল তৈরি করা বা অন্য ভাষার ভিডিওতে ইংরেজি সাবটাইটেল যোগ করার প্রচুর কাজ পাওয়া যায়।

  • কাজ: ভিডিও শুনে বা স্ক্রিপ্ট দেখে সঠিক টাইমিংয়ে ইংরেজি টেক্সট বসানো।

  • সুযোগ: Rev বা Upwork-এর মতো সাইটে এই কাজের ভালো ডিমান্ড রয়েছে।

৩. অনলাইন কমিউনিটি ম্যানেজার (Online Community Manager)

বড় বড় ব্র্যান্ড বা ইনফ্লুয়েন্সারদের ফেসবুক গ্রুপ, ডিসকর্ড সার্ভার বা ফোরাম থাকে। এই গ্রুপগুলোকে সচল রাখা এবং মেম্বারদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য তারা ম্যানেজার নিয়োগ দেয়।

  • কাজ: ইংরেজিতে মেম্বারদের সাথে চ্যাট করা, স্প্যাম কমেন্ট রিমুভ করা এবং গ্রুপের পরিবেশ ভালো রাখা।

  • যোগ্যতা: ভালো যোগাযোগের ক্ষমতা এবং ধৈর্য।

৪. ভয়েস ওভার আর্টিস্ট (Voice Over Artist)

আপনার কণ্ঠস্বর কি সুন্দর এবং ইংরেজি উচ্চারণ কি স্পষ্ট? তাহলে আপনি ভয়েস ওভার আর্টিস্ট হিসেবে কাজ করতে পারেন।

  • কাজ: বিভিন্ন বিজ্ঞাপন, অডিওবুক, বা ইউটিউব ভিডিওর জন্য ইংরেজিতে স্ক্রিপ্ট পাঠ করা।

  • টিপস: শুরুতে সাধারণ স্মার্টফোন দিয়ে রেকর্ড করেও স্যাম্পল তৈরি করতে পারেন।

৫. ইউজার টেস্টিং (User Testing)

আমেরিকা বা ইউরোপের কোম্পানিগুলো তাদের নতুন ওয়েবসাইট বা অ্যাপ রিলিজ করার আগে সাধারণ মানুষের মতামত নেয়। তারা দেখতে চায় একজন ব্যবহারকারী ইংরেজিতে নির্দেশনাগুলো বুঝতে পারছে কি না।

  • কাজ: একটি ওয়েবসাইট বা অ্যাপ ব্যবহার করা এবং ইংরেজিতে আপনার অভিজ্ঞতা বা মতামত রেকর্ড করে জানানো।

  • প্লাটফর্ম: UserTesting-এর মতো সাইটে এই কাজ পাওয়া যায়।

কেন এই কাজগুলো বেছে নেবেন?

  • কম প্রতিযোগিতা: গ্রাফিক্স বা ওয়েবের তুলনায় এই সেক্টরগুলোতে প্রতিযোগিতা কিছুটা কম।

  • দ্রুত শুরু করা যায়: নতুন কোনো টেকনিক্যাল স্কিল শেখার জন্য মাসের পর মাস সময় দিতে হয় না।

  • ফ্লেক্সিবিলিটি: নিজের সময়ের সুযোগ মতো কাজ করা যায়।

শেষ কথা

আপনার ইংরেজি দক্ষতা শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, এটি আপনার উপার্জনের হাতিয়ার। আপনি যদি গ্রামার এবং লিসেনিং-এ দক্ষ হন, তবে আজই এই আনকমন সেক্টরগুলো এক্সপ্লোর করা শুরু করুন। হয়তো এখানেই লুকিয়ে আছে আপনার সফল ক্যারিয়ারের চাবিকাঠি।